Thursday, July 7, 2011

গুগল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট


ইন্টারনেটে সবচেয়ে বড় অনুসন্ধান যন্ত্র গুগল, একে বলা হয় সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট। বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের একটি সাধারণ অভ্যাস হলো, যে কোনো বিষয়ে তথ্য খুঁজতে প্রথমেই গুগল খুলে সার্চ দেওয়া। ব্যবহারকারীদের জানাশোনার মধ্যে প্রচুর ওয়েবসাইটই থাকে। কিন্তু ব্যবহারকারীরা যখন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য খোঁজ করেন তখন কোথায় তা থাকতে পারে সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নির্দিষ্ট সাইটে সার্চ করেন না। তারা সাহায্য নেন সার্চ ইঞ্জিনের। সার্চ ইঞ্জিনগুলো কি ওয়ার্ডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে তার প্রয়োজনীয় তথ্যের কাছে নিয়ে যায় বা তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে তার নির্দেশনা দেয়। এ কাজের জন্য লাখ লাখ ওয়েবসাইট থেকে তথ্য জোগাড় করে সার্চ ইঞ্জিনগুলো। এ কাজে গুগলই সেরা। শুধু সেরা নয়, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা গুগলের ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে কোনো তথ্য গুগলে না থাকলে সে তথ্য প্রায় লোকচক্ষুর অন্তরালে আছে বলে ধরে নেওয়া হয়। গুগলের এই উপযোগিতার কারণে সাইটটি প্রায় সব দেশেই ট্রাফিক র‌্যাংকিংয়ে এক বা দুই নাম্বারে থাকে। ব্যবহারকারীরা যেমন চায় প্রয়োজনীয় সব তথ্য গুগলের আওতায় থাকুক, তেমনি যারা তথ্য জানাতে ভয় পায় তারাও চায় গুগলে তথ্যটি না থাকুক। ফলে নানা দেশের সরকার গুগলের কাছে নিয়মিত নানা বিষয়ে তথ্য মুছে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠায়। শুধু তথ্য মুছে দেওয়াই নয়, ব্যবহারকারীর তথ্য জানতে চেয়েও চিঠি দেয় সরকারগুলো। ব্যবসার প্রয়োজনে গুগল তথ্য সরবরাহ করে। গুগলের এমন তথ্য সরবরাহের নানা নজির থেকে কেউ কেউ এ সার্চ ইঞ্জিনটিকে স্পাই বলেও অভিযোগ করেন। কিন্তু গুগল বলছে, তথ্য মুছে দেওয়া বা সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের পালনীয় নীতি আছে। সেগুলো মেনেই তারা কাজ চালায়। নানা দেশের নানা আইন বা রীতি, কোনো আদালত যদি কোনো তথ্য মুছে দেওয়ার নির্দেশ দেন, কোনো তথ্য/ছবি/ভিডিও যদি ঘৃণা ছড়ায়, পর্নোগ্রাফিক হয় কিংবা আইনগতভাবে অন্যায্য হয় তবে সে তথ্য মুছে ফেললে কেউ আপত্তি করবেন না। কিন্তু যদি সরকারের অনুরোধে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বঞ্চিত করা হয় তবে আপত্তি থাকার কথা। আর সরকারের অনুরোধে ব্যবহারকারীদের তথ্য পাচার করলে তো সেটি গুরুতর ঘটনা। গুগল এসব করে, কিন্তু এবার তাতে একটু স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নিয়েছে কোম্পানিটি। তারা রীতিমতো একটি ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। কোন দেশ তাদের কাছে কত তথ্য মুছে দেওয়ার অনুরোধ করেছে, কত তথ্য মুছে দেওয়া হয়েছে তার একটা তালিকা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকাটি অনেককেই বিস্মিত করবে। কেননা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে এবং গণতান্ত্রিক বলে কথিত দেশগুলোর অবস্থান এ তালিকার শীর্ষে। প্রথমেই যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয় অবস্থানে ব্রাজিল, তৃতীয় অবস্থানে ভারত, চতুর্থ অবস্থানে ইংল্যান্ড, পঞ্চম ফ্রান্স, ষষ্ঠ জার্মানি। গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট দেশগুলোকে সচেতন করবে বলেই মনে হয়। ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়ানো বা ক্ষতিকর কোনো তথ্য ছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো তথ্য বন্ধ করার উদ্যোগ সমর্থন করা যায় না। এক্ষেত্রে গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট কাজে আসতে পারে। তবে রিপোর্টটিকে আরও বিস্তারিত হতে হবে। সরকারের কয়টি আবেদন আদালতের নির্দেশে, আর কয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সে কথাগুলো রিপোর্টে উল্লেখ থাকলে ভালো হতো। ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়ার ধরনগুলোও উল্লেখ করা প্রয়োজন। মজার ব্যাপার, মতপ্রকাশের অধিকার সীমিত এমন দেশ চীন কিন্তু গুগলের কাছে কোনো চিঠি পাঠায়নি। কারণ, চীনে গুগল বন্ধ। মূল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্টে দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকলেও ট্রাফিক রিপোর্টে আছে। কেননা, ২০০৯ সালের মার্চে বাংলাদেশে চারদিন ইউটিউব বন্ধ ছিল।

No comments:

Post a Comment