Tuesday, June 29, 2010

একশ' রুপির উপন্যাস!


বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের হাল-হকিকত হয়তো অনেকের জানা; কিন্তু কতটুকু জানা থাকা সম্ভব? একুশে বইমেলায় বই প্রকাশিত হয় কয়েক হাজার। এই বিপুল বইয়ের সম্ভারে চেনা-জানা, সিরিয়াস কিংবা জনপ্রিয় লেখকদের বই হাতে গোনা। এ সামান্যসংখ্যক বই নিয়েই পত্র-পত্রিকায় আলোচনা হয়, পাঠকরাও আগ্রহ ভেদে সে বই থেকে কেনাকাটা সারেন। এর বাইরে বইয়ের বিশাল একটি অংশ থেকে যায় সচেতন পাঠকের নাগালের বাইরে। অবশ্য নাগালের বাইরে বললে ভুল হবে, বইমেলার ঠিক বাইরেই রাস্তায় পাটি বিছিয়ে ভারতীয় পাইরেসি বইয়ের পাশে যে দুর্বল মলাটে, হালকা প্রচ্ছদে, বাহারি নামের বইগুলো শোভা পায় সেগুলো তো চেনা লেখকের চেনা বইয়ের চেয়ে হাতের নাগালে মেলে বেশি। নীলক্ষেতে, পুরানা পল্টনে ফুটপাতের বইয়ের দোকানে এ বইগুলোর কাটতি ভালো। আর ঢাকার বাইরে জেলা শহরগুলোর বইয়ের দোকান মানে কম দামের এসব বাহারি বইয়ে ভরা সেলফ। বছরখানেক আগে এসব বই নিয়ে একটি প্রতিবেদনও চোখে পড়েছিল। সেখানেই জানতে পেরেছিলাম, ভুল বানানে, কোনো সম্পাদনা, বাছ-বিচারের অবকাশ না রেখে ছাপা এসব বইয়ের নাম নেটবই। বাংলাবাজারের কিছু প্রকাশকের আয়ের উৎস এ নেটবই। নবিশ বা শখের লেখকরা পাণ্ডুলিপি নিয়ে এলে টাকার বিনিময়ে ছেপে কিছু বই লেখককে ধরিয়ে দিয়ে বাকিগুলো বাজারে ছেড়ে কিছু টুপাইস কামান অনেক প্রকাশক। মজার ব্যাপার হলো, মফস্বল বা রাজধানীর শখের লেখকরাই শুধু নন, প্রবাসী লেখকদের মহা-কদর আছে এমন প্রকাশকদের কাছে। নিজের টাকায় বই বের করেন আর সে টাকা থেকে লভ্যাংশটা পকেটে পুরতে পারেন বলে প্রকাশকরা নাকি নেটবইয়ের মুরগা ধরার জন্য তক্কে তক্কে থাকেন। বাংলাবাজারের নেটবই থেকে বেস্ট সেলার বেরিয়েছে কি-না সে খবর এখনও আমরা জানি না। নেটবই ছেপে কোনো প্রকাশক কোটিপতি হয়ে গেছেন কি-না সে বিষয়েও আমরা বেখবর; কিন্তু ভারতের বাজারে এখন নাকি ১০০ রুপির উপন্যাসের বেশ কাটতি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস গত ২৬ তারিখে এ নিয়ে একটি রিপোর্ট ছেপেছে। কৌতূহলকর এ রিপোর্টে বলা হচ্ছে, ভারতের ইংরেজি বইয়ের বাজারে এখন চালু ট্রেন্ড হলো ১০০ রুপির সাহিত্য। প্রকাশনা শিল্পে এ নিয়ে বিরাট একটা হেস্তনেস্ত হয়ে গেছে। কোনো সম্পাদনা, গ্র্যামার, বানানের বালাই নেই, স্রেফ সস্তা প্রেমকাহিনী মলাটবদ্ধ করে ছাড়ছে প্রকাশনা সংস্থাগুলো।
ভারতে ১০০ মিলিয়ন মানুষ ইংরেজিতে কথা বলে। আর এ মানুষগুলোর কাছে এ হালকা উপন্যাসই বিকোচ্ছে দেদার। বলা হয়ে থাকে, ভারতে কোনো বই ৫ হাজার কপি চললেই বইটিকে বেস্ট সেলার তকমা দেওয়া হয়; কিন্তু সৃষ্টি পাবলিশার্স এমন সব ১০০ রুপির উপন্যাস বের করেছে, ভারতজুড়ে এসব বইয়ের ১৬ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত বিক্রি হওয়া কোনো ব্যাপারই নয়। সৃষ্টি পাবলিশার্সের বয়স ১২ বছর। মালিক জয়ন্ত কে বসু। তারা এ জনপ্রিয়তার বাজারে ঢুকেছে মাত্র ২০০৮ সালে। এর মধ্যেই তারা ৩৬ জন নাম না জানা লেখকের বই বাজারে এনেছে। এদের মধ্যে কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ ছাত্র, একজন আবার ১৬ বছরের বালক। এদের অনেকে লেখক হওয়ার আগে একটা-দুটোর বেশি বইও পড়েনি। জয়ন্ত কে বসু বলছেন, তারা পাঠক বাড়াচ্ছেন। পাঠকরা পড়ছে, ফলে বই প্রকাশিত হচ্ছে। জয়ন্ত ছিলেন রুপা প্রকাশনীর মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তা। এখন তিনি সৃষ্টিকে এমন এক জায়গায় নিয়ে এসেছেন যে, সৃষ্টি পাবলিশার্সকে এখন একতা কাপুরের বালাজি টেলিফিল্মসের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। একতা কাপুর যেমন প্রত্যেক টিভি সিরিয়াল শুরু করেন কে দিয়ে, তেমনি জয়ন্তও বইয়ের নাম দেন ১৯ বর্ণের। নামগুলোও বাহারি। যেমন- অফকোর্স আই লাভ ইউ...!, নাউ দ্যাট ইউ আর রিচ...। অবস্থা এমন জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে, পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া, রুপার মতো প্রকাশনীগুলোও বাজারে ঢোকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। ১০০ রুপির উপন্যাস ছাপা শুরু করেছে। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠবে_ এ উপন্যাসগুলোতে থাকে কী? একজন লেখক বলছেন, 'আমরা কঠিন শব্দ ব্যবহার করি না। আর গল্পটা এমনভাবে বলি যেন লিখছি না, পাঠক আমার সামনে দাঁড়িয়ে, আমি তাকে বলছি।'

Tuesday, June 15, 2010

দরজায় কড়া নাড়ছে পত্রিকার হকার : অরুন্ধতী রায়




ভারত সরকার যখন দেশের প্রান্ত-অঞ্চলে বিদ্রোহীদের দমনের জন্য সেনা ও বায়ুসেনা মোতায়েনের চিন্তাভাবনা করছে তখন শহরাঞ্চলে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটছে। 'গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা কমিটি' ২ জুন মুম্বাই শহরে একটি জনসভার আয়োজন করে। মূল বক্তা ছিলেন 'ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি'র সম্পাদকীয় উপদেষ্টা গৌতম নাভলাখা আর আমি। মিডিয়ার উপস্থিতি ছিল দেখার মতো। সভা হয়েছিল ৩ ঘণ্টা। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তা সাড়ম্বরে প্রচারিতও হয়েছিল। ৩ জুন কিছু পত্রিকা, টিভি ও রেডিফের মতো কিছু অনলাইন খবরদাতা সাইট বস্তুনিষ্ঠভাবে এ বিষয়ক খবর প্রচার করেছিল। টাইমস অব ইন্ডিয়ার মুম্বাই সংস্করণের শিরোনাম হয়েছিল 'আমাদের এখন এমন একটা আদর্শ দরকার যা বামও না, ডানও না।' হিন্দু পত্রিকার খবরের শিরোনাম হয়েছিল 'আমরা কি পাহাড়ে বক্সাইট ফেলে রাখতে পারি?' সভার ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করা হয়েছিল।
কিন্তু মিটিংয়ের পরদিন আমি যা বলেছিলাম তাকে মিথ্যা আকারে কর্কশভাবে উপস্থাপন করে পিটিআই। খবরটি প্রথম প্রকাশিত হয় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ৩ জুন ১টা ৩৫ মিনিটে। শিরোনামে লেখা হয়েছিল, 'অরুন্ধতী মাওবাদীদের সমর্থন দিচ্ছেন এবং কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেফতার করতে পারে এই ভয়ে ভীত নন'। সংবাদের কিছু অংশ এখানে তুলে দিচ্ছি :
"লেখক অরুন্ধতী রায় মাওবাদীদের প্রতিরোধ আন্দোলনকে যথার্থ মনে করেন এবং এই সমর্থনের জন্য কর্তৃপক্ষ যদি তাকে গ্রেফতার করে তবে তার তোয়াক্কা তিনি করেন না। রায় বলেন, 'নকশাল আন্দোলন সশস্ত্র সংগ্রাম ছাড়া আর কিছু নয়। কিন্তু আমিও দোষারোপমূলক রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে। এই আন্দোলন সশস্ত্র হওয়াটাই উচিত ছিল। বিরোধিতার গান্ধীবাদী পদ্ধতিতে শ্রোতার প্রয়োজন হয়, যা এখানে অনুপস্থিত।' সংগ্রামের এই পথ বেছে নেওয়ার আগে মানুষ এ নিয়ে দীর্ঘ তর্ক-বিতর্ক করেছে। দাতেঁওয়াড়াতে নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে মাওবাদীদের ভয়াবহ হামলায় ৭৬ জন সিআরপিএফ ও পুলিশের মৃত্যুর ঘটনায় অরুন্ধতী মাওবাদীদের স্যালুট জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমি লাইনের একপাশে নই। আমি কারও পরোয়া করি না... আমাকে তুলে নিয়ে জেলে ভরে ফেলো'।"
খবরের শেষ থেকেই শুরু করি। আমি ৭৬ সিআরপিএফ সদস্যের নিহত হওয়ার ঘটনায় দাতেঁওয়াড়ার মানুষকে স্যালুট জানিয়েছি_ এই কথাটি একটি অপরাধমূলক বিকৃতি। আমি সিএনএন-আইবিএনের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে এটি স্পষ্ট করে বলেছি যে, সিআরপিএফ সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনাকে আমি দুঃখজনক মনে করি। আমি মনে করি, তারা গরিবের বিরুদ্ধে ধনীদের যুদ্ধে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন। মুম্বাইয়ের সভায় আমি যা বলেছি তা হলো, মিডিয়া যে অন্তঃসারশূন্য দোষারোপের ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলেছে আমি তাকে সমালোচনা করি। যুদ্ধ শুরু হয়েছে, সহিংসতাও বিস্তার লাভ করেছে, এখন দু'পক্ষের নৃশংসতার খবর সংবলিত কোনো নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া কঠিন। ফলে এক পক্ষের নৃশংসতার ওপর ভিত্তি করে নৃশংসতার বিশ্লেষণ অর্থহীন হয়ে পড়েছে। আমি বলেছি, আমি ওইখানে সরকার বা মাওবাদী কারও দ্বারাই কোনো সাধারণ মানুষ হত্যার ঘটনাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য উপস্থিত ছিলাম না। এখন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যে, আদিবাসী গ্রামগুলোতে সিআরপিএফ সদস্যরা ২৭টি একে ফোরটি সেভেন, ৩৮টি আইএনএসএএস, ৭টি এসএলআর, ৬টি লাইট মেশিনগান নিয়ে কী করছিল? যদি তারা যুদ্ধ করতেই গিয়ে থাকে তবে মাওবাদীদের দ্বারা সিআরপিএফ সদস্যদের হত্যার ঘটনাকে দোষারোপ করার মানে হলো, এই যুদ্ধে সরকারের পক্ষাবলম্বন করা। আর এই যুদ্ধের সঙ্গে আমরা অনেকেই দ্বিমত পোষণ করি।
পিটিআইর খবরের বাকি অংশগুলো সভা সম্পর্কে বিদ্বেষপ্রসূত, বুদ্ধিহীন মুড়িঘণ্ট। মাওবাদীদের সম্পর্কে আমার অবস্থান পরিষ্কার। আমি তাদের নিয়ে দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছি। আমি ওই সভায় বলেছি, করপোরেট কোম্পানির ভূমিগ্রাসের বিরুদ্ধে মানুষ যে আন্দোলন করছে তাতে বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ একত্রিত হয়েছে। এই মতাদর্শের মানুষের মধ্যে মাওবাদীরা সবচেয়ে জঙ্গি। আমি বলেছি, সরকার এখন সবাইকে মাওবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করছে, যাতে সবার বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক ও সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আমি বলেছি, সরকার মাওবাদী কথাটাকে এমনভাবে সম্প্রসারিত করেছে যে, যারাই তাদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এবং ন্যায়বিচার নিয়ে কথা বলছে তারাই এখন মাওবাদীতে পরিণত হয়েছে। আমি কালিংনগর ও জগৎসিংপুরের মানুষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি, যারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেও সশস্ত্র পুলিশের দ্বারা ঘেরাও হয়েছিল এবং তাদের গুলি করা হয়েছিল। আমি বলেছি, স্থানীয় মানুষেরা কী পদ্ধতিতে প্রতিরোধ করবে তা নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন চিন্তাভাবনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেয়। আমি বলেছি, কেন গভীর বনের মানুষেরা গান্ধীবাদী প্রতিরোধের পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারে না। সত্যাগ্রহের জন্য এক ধরনের রাজনৈতিক মঞ্চ দরকার, এটি কার্যকর করার জন্য দরকার সহানুভূতিসম্পন্ন মানুষের উপস্থিতি, কিন্তু গভীর বনে সেটি নেই। আমি কথা বলেছি ক্ষুধার্ত মানুষের সঙ্গে, তারা কীভাবে আমরণ অনশনে যাবে? আমি কখনও বলিনি, 'এই আন্দোলন সশস্ত্র হওয়াই উচিত ছিল।' (এই পৃথিবীতে কথাটার মানে কী দাঁড়ায় আমি জানি না।)
আমি বলেছিলাম, বিভিন্ন মতভিন্নতা সত্ত্বেও আজ অনেক আন্দোলন চলছে এবং সেগুলো চলছে একই শত্রুর বিরুদ্ধে। ফলে তারা সবাই একই দিকে এবং আমি তাদের পাশে আছি। কিন্তু লাইনের এই পাশ থেকে শুধু সরকারকে প্রশ্ন করাই কর্তব্য নয়, আমাদের নিজেদেরও প্রশ্ন করতে হবে। আমি যা বলেছিলাম, তা হুবহু এই :
'আমি যে প্রতিরোধকে ধারণ করি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি লাইনের এই পাশে আছি। আমি এ নিয়ে সচেতন। আমি পরোয়া করি না, আমাকে তুলে নাও, জেলে ভরে ফেলো। আমি লাইনের এই পাশে আছি। কিন্তু এই পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানো এবং সহযোদ্ধাদের প্রশ্ন করা উচিত।'
এরপর আমি বলেছি, যখন এটা বলা হচ্ছে যে, প্রতিরোধের গান্ধীবাদী পদ্ধতি কার্যকর নয়, তখন এটা মনে রাখা দরকার যে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের মতো কার্যকর গান্ধীবাদী আন্দোলনের একটি মৌলিক ও বিপ্লবী উন্নয়ন দর্শন আছে। কিন্তু মাওবাদী আন্দোলন যেখানে কার্যকর সেখানে তারা কোনো বিকল্প উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা ভেবেছেন কি-না এ নিয়ে সন্দেহ আছে। সরকার প্রাইভেট কোম্পানির কাছে খনি বিক্রি করে দিচ্ছে এই তথ্যের বাইরেও যে প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো, রাষ্ট্রের খনিনীতির চেয়ে মাওবাদীদের খনিনীতি কি খুব আলাদা? তারা কি পাহাড়ে বক্সাইট ফেলে রেখে দেবে? নাকি ক্ষমতায় এলে তারা খনন চালাবে? আমি পাবলো নেরুদার সেই 'আদর্শ তেল কোম্পানি' কবিতাটির কথা উল্লেখ করতে পারি, যেখানে এই পুরনো তর্কটির কথা বলা হয়েছে।

পিটিআই রিপোর্টার আয়োজকদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সভা রেকর্ড করার পর এই মনগড়া 'ব্যাখ্যা' দাঁড় করাতে পারেন না। এটা ভয়াবহ মিথ্যাচার। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ৪ জুন বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টিভি একদিনের পুরনো এই রিপোর্ট প্রকাশ করে। আর এসব পত্রিকা ও টিভির নিজেদের রিপোর্টাররা আগের দিন সঠিক সংবাদ দিয়েছেন এবং জানেন পিটিআইর রিপোর্টটি মিথ্যা। দি ইকোনমিক টাইমস বলেছে, 'অরুন্ধতী রায় প্রকাশ্য সভায় অং সান সু চি হতে চেয়েছেন।' আমি এটা জানতে আগ্রহী যে, কেন সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলগুলো একই খবর একবার সত্য আরেকবার মিথ্যা আকারে মোট দুইবার ছাপতে আগ্রহী হলো?'
ওইদিন সন্ধ্যা ৭টায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী আমার দিলি্লর বাসায় এসে জানালায় পাথর ছুড়ে মেরেছে। একটি পাথর রাস্তায় ক্রীড়ারত এক বাচ্চার গায়ে প্রায় আঘাত করতে বসেছিল। এতে ক্ষিপ্ত মানুষ জড়ো হয়, লোক দুটি পালিয়ে যায়। এর মিনিট খানেকের মধ্যেই একটি টাটা ইন্ডিকা এসে হাজির। একটি লোক নিজেকে জিটিভির রিপোর্টার পরিচয় দিয়ে জিজ্ঞেস করল, এটা কি অরুন্ধতী রায়ের বাড়ি? এখানে কি কোনো সমস্যা হয়েছে? স্পষ্টভাবেই বোঝা যায়, এটি আমাদের টিভি চ্যানেলগুলোর পাতানো নাটক মঞ্চায়নের আগ্রহে ঘটেছে, যেখানে দেখানো হতো অরুন্ধতী রায় জনরোষের শিকার হয়েছেন। আমার সৌভাগ্য, তাদের চিত্রনাট্যে ভুল ছিল। কিন্তু আরও অনেক কিছু তখনও বাকি ছিল। ৫ জুন রায়পুরের দৈনিক ভাস্কর একটি খবর ছাপে, যেখানে লেখা হয়, 'সাহস থাকে তো এসি রুম ছেড়ে জঙ্গলে আসুন, অরুন্ধতী রায়।' ওই সংবাদে ছত্তিশগড় পুলিশের মহাপরিচালক বিশ্বরাজন আমার উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, মাওবাদীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে আমি যেন পুলিশকে মোকাবেলা করি। ভাবুন, পুলিশের মহাপরিচালক বনাম আমি, ম্যান টু ম্যান এমন লড়াইয়ের কথা। ভারতীয় জনতা পার্টির ছত্তিশগড়ের নেতা পুনম চতুর্বেদী সাংবাদিকদের বলেন, আমাকে চৌরাস্তায় গুলি করে মেরে ফেলা উচিত। এবং আমার মতো অন্য বিশ্বাসঘাতকদের শূলে চড়ানো উচিত (কারও উচিত তাকে জানানো যে, সরাসরি এ ধরনের সহিংসতা ছড়ানো ইন্ডিয়ান পেনাল কোডে শাস্তিযোগ্য অপরাধ)। ৮ জুন হিন্দি দৈনিক নয়ি দুনিয়া খবর দেয়, 'মাওবাদীদের প্রকাশ্যে সমর্থন' দেওয়ার অপরাধে দুজন ব্যক্তি ছত্তিশগড়ের দুটি থানায় নালিশ জানিয়েছেন।
এটাকেই বলে মনস্তাত্তি্বক যুদ্ধ। নাকি এটি অপারেশন গ্রিন হান্টের শহুরে ভূত? যেখানে একটি সরকারি সংবাদ সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি নথি তৈরি করার জন্য সহায়তা করছে, যখন ওই মন্ত্রণালয় আমার বিরুদ্ধে কোনো তথ্যপ্রমাণ খুঁজেও পায়নি? নাকি পিটিআই সরকারকে এই ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছে যে, আমাদের মধ্যে যারা বেশি পরিচিত তাদের গ্রেফতার করলে সরকারের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ক্ষতি হবে না? নাকি এটি সেই নিষ্ঠুর খেলার অংশ, যাতে কোনো বিচার-বিবেচনার অবকাশ না রেখে বলা হয়, যদি তুমি আমাদের সঙ্গে না থাক, তবে তুমি মাওবাদীদের সঙ্গে আছ। তুমি শুধু একজন মাওবাদী নও, তুমি বোকা, উগ্র ও উচ্চরবের মাওবাদী। যাই হোক, এটি ভয়ঙ্কর ও লজ্জাহীন এবং নতুন একটি ঘটনা। যে কোনো কাশ্মীরিকে জিজ্ঞেস করুন, বা যে কোনো তরুণ মুসলিমকে যে 'সন্ত্রাসী' হিসেবে গ্রেফতার হয়েছে শুধু ভিত্তিহীন সংবাদের ভিত্তিতে। জিজ্ঞেস করুন মোহাম্মাদ আফজালকে, যাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে 'সমাজের যৌথ অবচেতনাকে শান্তি দিতে'।
এখন অপারেশন গ্রিন হান্ট আমার মতো লোকের দরজায় করাঘাত করতে শুরু করেছে। ভাবুন সেই সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মীদের কথা, যারা সমাজে পরিচিত নন, তাদের ক্ষেত্রে কী হচ্ছে। ২০০ জনকে জেল দেওয়া হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে অথবা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর ঘটনাটি ঘটেছে ২৬ জুন জরুরি অবস্থার ৩৫তম বার্ষিকীতে। যেন ভারতীয় জনগণকেই এখন জরুরি অবস্থা জারি করতে হবে (কেননা সরকার এটি করবে না)। প্রশ্ন হলো, জরুরি অবস্থা কি কখনও তুলে নেওয়া হয়েছিল? এখন সেন্সরশিপ বড় সমস্যা নয়, এর চেয়ে বড় সমস্যা হলো সংবাদের নির্মাণশিল্প।

ভারতের আউটলুক ম্যাগাজিন থেকে
ভাষান্তর : মাহবুব মোর্শেদ

Saturday, June 12, 2010

শাকিরা ও ওয়াকা ওয়াকা



বিশ্বকাপের থিম অ্যানথেমটি এখন সবার মুখে মুখে, টেলিভিশনের পর্দায়, ইউটিউবে, রেডিওতে। লাখ লাখ মানুষ এখন শাকিরার সঙ্গে গলা মিলিয়ে গাইছেন 'ওয়াকা ওয়াকা'। ওয়াকা শব্দের মানে, 'এখন সময় আফ্রিকার'। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাকিরা যেভাবে তার পরিবেশনা দিয়ে কোটি দর্শককে মাতিয়েছেন তাতে অনেকেই একবাক্যে বলেছে_ অসাধারণ, মোহনীয়, মনোমুগ্ধকর। শাকিরাও বলেছেন, তার জীবনের সবচেয়ে আবেগী মুহূর্তগুলোর একটি এ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করার ঘটনা। কিন্তু খোদ আফ্রিকানরাই বাদ সেধেছে শাকিরার এই গান নিয়ে। এখন সময় আফ্রিকার, এটি আফ্রিকার মানুষের অন্তরের কথা। দক্ষিণ আফ্রিকার জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, দারিদ্র্যপীড়িত কালো মানুষরা জেগে উঠছে। বিত্ত-বৈভবে আফ্রিকার এই উত্থানকে এখন নতুন করে গুনতে হবে বিশ্ববাসীকে। অবশ্য আফ্রিকায় নতুন চৈতন্যের জাগরণ শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতা মিসরে আফ্রিকানরাই নির্মাণ করেছিল। আধুনিক পৃথিবীতে নেলসন ম্যান্ডেলাও নতুন জাগরণের মন্ত্র শুনিয়েছিলেন। এবার বিশ্বকাপের প্রথম খেলায় মেক্সিকোর সঙ্গে মারদাঙ্গা লড়াইয়েও তারা দেখিয়ে দিল, ফুটবলেও তাদের গুনতে হবে। হ্যাঁ, আফ্রিকা এবার নতুন করে জাগছে, নতুন যুগে প্রবেশ করছে। বিশ্বকাপের গানে তার প্রতিধ্বনি বাজবেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কথাটা শাকিরার মুখ থেকে শুনতে হবে কেন? এ প্রশ্ন তুলেছেন আফ্রিকার তরুণ-তরুণীরা। তারা বলছেন, এ গান তো গাইবার কথা আমাদের। আমরাই বিশ্বকে জানাতে পারতাম আমরা জেগে উঠছি। আমাদের কোথায় কমতি ছিল? কিন্তু আমাদের কথাগুলো বলার জন্য শাকিরাকে ডেকে আনা হলো কেন? গানটি আফ্রিকান ব্যান্ড ফ্রেশলিগ্রাউন্ড ও শাকিরার যৌথ প্রযোজনা। তারপরও মুখ্য ভূমিকা শাকিরারই। ফলে বিশ্বকাপের মাঠে উত্তেজনা ছড়ানোর আগেই গান নিয়ে এক প্রস্থ হয়ে গেছে। আফ্রিকানদের এই তর্কে নিশ্চয়ই অনেকে সায় দেবেন। আফ্রিকা একটি মহাদেশ। এ মহাদেশের গান আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের গানকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল। জ্যাজ, রক অ্যান্ড রোলের জন্ম হয়েছিল আফ্রিকান সঙ্গীতের হাত ধরে। শাকিরা তো সেই সঙ্গীতধারারই উত্তরাধিকার। শাকিরার জন্ম ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭, কলম্বিয়ায়। জীবনের শুরুতেই তিনি লাতিন আমেরিকার শিল্পী হিসেবে গণ্য হন। এরপর পরিণত হন পুরো আমেরিকা মহাদেশের জনপ্রিয় শিল্পীতে। লাতিন আমেরিকান মেয়েদের কাছে শাকিরা আইকন। নোবেল বিজয়ী কথাশিল্পী গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ জানিয়েছিলেন, লাতিন মেয়েরা শাকিরার মতো করে হাঁটে, শাকিরার মতো করে চুল বাঁধে, শাকিরার মতো করে পোশাক পরে। নব্বইয়ের দশকে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকাজুড়ে তিনি খ্যাতিমান হন। গানের এ অপূর্ব ক্ষমতা যে, লাতিন আমেরিকার শিল্পী হয়েও তিনি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হন। বাংলাদেশেও তিনি জনপ্রিয়। শাকিরার গানে নানা জাদু আছে, তার মধ্যে আছে নানা সংস্কৃতির মিশ্রণ। তিনি ইংরেজি, পর্তুুগিজ ও স্প্যানিশ এই তিন ভাষায় কথা বলতে এবং গাইতে পারেন। তার বংশের মধ্যে লেবানিজ ও ইতালীয় ধারাও মিশেছে। শাকিরা শব্দটি আরবি, অর্থ কৃতজ্ঞ। বলা হয়ে থাকে, শাকিরার পরিবেশনার সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর দিক তার নাচ। আর তার বিশিষ্ট নাচের স্টাইলটি এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের বেলি ড্যান্সিংয়ের এতিহ্য থেকে। কি খ্যাতি কি পরম্পরা কোনো দিক থেকে শাকিরাকে একটি মহাদেশের বলা যাবে না। ফলে শেষ পর্যন্ত তিনি গোটা বিশ্বের শিল্পী। আইকন। আর এ কারণেই ফিফা তাকে বেছে নিয়েছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। বিশ্বখ্যাত ঔপন্যাসিক মার্কেজ ২০০৬ সালে শাকিরাকে নিয়ে একটি লেখা লিখেছিলেন। শাকিরার সাক্ষাৎকার ভিত্তিক লেখাটিতে তিনি শিল্পী অন্তর্লোকের নানা চিত্র তুলে এনেছিলেন। শোনা যায়, মার্কেজের সঙ্গে শাকিরার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। মার্কেজের উপন্যাস অবলম্বনে 'লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা' সিনেমা তৈরির সময় নাকি খোদ মার্কেজ তাকে সিনেমার মিউজিক ট্র্যাক তৈরি করতে বলেছিলেন। মজার ব্যাপার এই, শাকিরা বাংলাদেশে এসেছিলেন। ভয়াবহ সাইক্লোন সিডরের আক্রমণের পর তিনি ঘুরে গেছেন দক্ষিণাঞ্চল। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের মিডিয়া জানতেই পারেনি খবরটি
http://www.youtube.com/watch?v=v4N5N-mGf4U

Sunday, June 6, 2010

টুইটার ও ব্রেকিং নিউজ


বলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ব্লগিং শুরু করার পর ভারতে একটু তোলপাড় লেগে গিয়েছিল। বিগ বির পদাঙ্ক অনুসরণ করে অনেকেই ব্লগিংয়ের রাস্তায় হাঁটতে শুরু করেছিলেন। অনেকের মনে পড়বে, তখন আমাদের দেশের বিনোদন পাতাগুলোতে নিয়মিত বলিউডের বিভিন্ন অভিনেতা-অভিনেত্রীর ব্লগিং করার খবর প্রকাশিত হতো। ব্লগিং নিয়ে বলিউডের ওই তোলপাড়ের সময় পশ্চিমবঙ্গে জনপ্রিয় বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার একটি মন্তব্য প্রকাশ করেছিল। তাতে একটু পরিহাস করে বলা হয়েছিল, এবার সাংবাদিকদের যুগ শেষ। কারণ কী? কারণ নিউজ নিজেই কথা বলতে শুরু করেছে। আনন্দবাজার বলছিল, সাংবাদিকদের মোক্ষম অস্ত্র হলো, 'জানা যায়', 'বলা হয়ে থাকে', 'ধারণা করা হচ্ছে', 'খবরে প্রকাশ'। সাংবাদিকরা নাকি এই শব্দগুলো তখনই ব্যবহার করেন যখন তার হাতে তেমন তথ্য-প্রমাণ থাকে না। এমনকি তিনি যখন খবরটি উড়োকথা হিসেবে শুনেছেন তখনও নাকি স্রেফ একটি সূত্র জানায় বলে খবর হিসেবে চাউর করে দিতে পারেন। অমিতাভ বচ্চন তো বটেই, হলিউডের তারকারা খবরের বড় উৎস। ফলে তারা নিজেরা লিখতে শুরু করলে সাংবাদিকদের মোক্ষম অস্ত্র কাজে আসবে না বলেই মনে করছিল আনন্দবাজার। তারকারা ব্লগিং শুরু করার পর সাংবাদিকরা কতটা বিপদে পড়েছেন তা গবেষণার বিষয় বটে। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে সংবাদের যে অনেক পরিবর্তন ঘটছে না নিশ্চিত করে বলা যায়। গত সপ্তাহে এমনই একটি খবর দিল লন্ডনের ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকা। তারা বলছে, মাইক্রো ব্লগিং সাইট 'টুইটার' এখন সাংবাদিকদের কাছে ব্রেকিং নিউজের অন্যতম সূত্র। পত্রিকাটি ব্রিটেনের নির্বাচনের পর দরকষাকষির সময় ডেভিড ক্যামেরন ও নিক ক্লেগের টুইটার মেসেজের উল্লেখ করেছে। টুইটারে এই নেতারা আভাস দিয়েছিলেন যে, তাদের ঐকমত্য হতে যাচ্ছে। ফলে টুইটারের স্ট্যাটাসকে উদ্ধৃত করেই ব্রেকিং নিউজের অনুসন্ধান শুরু হয়ে গিয়েছিল। ইন্ডিপেন্ডেন্ট এমন অনেক উদাহরণ দিয়েছে। তারা বলছে, টুইটার সোশ্যাল নেটওয়ার্ক নয়, আবার ব্লগ সাইটও নয়। টুইটারের মাধ্যমে একবারে মাত্র ১৪০ শব্দ শেয়ার করা যায়। ফলে দিন দিন ১০০ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর মধ্যে টুইটার নিউজ সাইট হিসেবেই জনপ্রিয় হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানও সম্প্রতি বলেছে, লোকে টুইটারকে এখন খবরের অল্টারনেটিভ সাইট হিসেবেই গণ্য করছে। আর আমেরিকা-ব্রিটেনের রাজনীতিকরাও টুইটারের মাধ্যমে সাংবাদিকদের নানা সংবাদের ক্লু দিতে শুরু করেছেন। টুইটার এখন সাংবাদিকদের কাছে ব্রেকিং নিউজের উৎস। ইরানের নির্বাচনের আগে-পরে মীর হোসেইন মুসাভির সমর্থকরা টুইটার ব্যবহার করে কেমন সংগঠিত হয়েছিল সে কথাও এই সূত্রে সবার মনে পড়বে। কিন্তু বাংলাদেশের সাংবাদিকরা যদি এখন ব্রেকিং নিউজের জন্য টুইটারে যান তবে তাদের হতাশ হতে হবে। কারণ টুইটার এখনও বাংলাদেশে ততটা জনপ্রিয় নয়। তারও চেয়ে বড় কথা, মোবাইলে এসএমএস সার্ভিসের মাধ্যমে টুইটার ব্যবহার এখনও চালু হয়নি এখানে। ফলে টুইটারের যে সহজ ও স্বতঃস্ফূর্ত ব্যবহার তা এখানে চালু হয়নি। কিন্তু ফেসবুক বন্ধ হওয়ার পর টুইটার অ্যালেক্সা ওয়েব র‌্যাংকিংয়ে ১০ নম্বর স্থানে চলে এসেছে এক সপ্তাহেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে আর টুইটারের জন্য মোবাইলের এসএমএস সার্ভিস চালু হলে নিশ্চয় আমাদের আপামর জনসাধারণের সঙ্গে রাজনীতিকরাও টুইটার ব্যবহার করবেন। তখন আমাদের দেশে টুইটার ব্রেকিং নিউজের উৎস হবে, সন্দেহ নেই।