Wednesday, October 27, 2010

পৃথিবীর একমাত্র সত্যি শহর_ ঢাকা :: শংকর


বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক শংকর সম্প্রতি ঢাকায় এসেছিলেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) আমন্ত্রণে। এবারই প্রথম বাংলাদেশে এলেন শংকর। পুরো নাম মণিশংকর মুখার্জি হলেও কয়েক প্রজন্মের বাঙালি পাঠকের কাছে তিনি প্রিয় লেখক শংকর নামে পরিচিত। ১৯৩৩ সালে যশোরের বনগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আইনজীবী বাবা হরিপদ মুখোপাধ্যায় ভাগ্যসন্ধানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগেই হাওড়ায় চলে আসেন। সেখানেই বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং সাহিত্যসাধনার শুরু। জীবনের শুরুতে টাইপিস্ট, ক্লার্কসহ বিভিন্ন কাজ করেছেন। শংকরের বিখ্যাত উপন্যাস 'চৌরঙ্গী' নিয়ে তৈরি হয়েছে বিখ্যাত সিনেমা। সত্যজিৎ রায় তারই কাহিনী অবলম্বনে নির্মাণ করেছেন 'জনঅরণ্য' ও 'সীমাবদ্ধ'র মতো চলচ্চিত্র। ইংরেজি ভাষায় তার বিখ্যাত বইগুলো অনুবাদ হতে শুরু করেছে সম্প্রতি। ২০ অক্টোবর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইইউবির স্থায়ী ক্যাম্পাসে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর শংকর কথা বলেন সমকালের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহবুব মোর্শেদ, একরামুল হক শামীমও শেরিফ আল সায়ার।


সমকাল : এবারই প্রথম বাংলাদেশে এলেন?
শংকর : বাংলাদেশে এর আগে কখনও সাহিত্যিক হিসেবে আসিনি। পাঠকের সঙ্গে মিলতে এই প্রথম আমার বাংলাদেশে আসা।
সমকাল : আপনার জন্ম তো বাংলাদেশের যশোরে?
শংকর : না। বাংলাদেশে না। বনগ্রামে। বনগ্রাম তখন যশোরে ছিল। পরে পার্টিশনের সময় বনগাঁ আলাদা হয়ে গেছে।
সমকাল : তার মানে দেশভাগের পর এবারই লেখক হিসেবে প্রথম এলেন?
শংকর : দেশভাগের আগেও আসিনি।
সমকাল : কেন বাংলাদেশে এলেন না?
শংকর : যখন হিসাব করলাম তখন দেখলাম যে কলকাতার বাইরে বাঙালি পাঠকদের সন্ধানে আমার প্রথম দিনই গিয়ে উপস্থিত হওয়া উচিত ছিল অর্থাৎ সেই ১৯৫৫ সালেই। সেখানে পেঁৗছাতে আমার জীবনের ৫৫টি বছর কেটে গেল। কেন এই কাণ্ড হয়েছে আমি বলতে পারব না। এর কারণ আমি আজও ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। কিন্তু ঘটে গেছে। যখন এখান থেকে টেলিফোনে নিমন্ত্রণ পেলাম, তখন আমি ভাবলাম, এটা কী হলো? 'বনলতা সেন' কবিতায় যেমন জিজ্ঞেস করা হয়েছে, 'এতদিন কোথায় ছিলেন?' সে কথাটিই মনে হলো তৎক্ষণাৎ। এক-একটা লোভ থাকে জীবনে; সেই লোভটাই ধরা দিল সামনে। প্রথম জীবনে বাবা আমাকে রেগে গিয়ে অকালপকস্ফ বলতেন। অকালপকেস্ফর ফল হলো_ আঠারো-উনিশ বছর বয়সে লিখে ফেললাম। কিন্তু তারপরই বোধহয় ওপরওয়ালা প্রতিশোধ নিলেন। দেখলাম জীবনের অনেক জিনিসপত্র দেরিতেই ঘটে চলেছে আমার ক্ষেত্রে। ৫৫ বছর আগে কী লিখেছি, সেটা হঠাৎ দিলি্ল-ইংল্যান্ড বিভিন্ন স্থান ঘুরে হঠাৎ ইংরেজি মাধ্যমে আবার আমাকে এমনসব জায়গায় এনে পেঁৗছে দিল যেখানে আমার বহুদিন আগেই উপস্থিত হওয়া উচিত ছিল। যাই হোক, সেটা অন্য কথা।
সমকাল : এখানকার নিমন্ত্রণও তো ইংরেজি অনুবাদের সূত্রেই?
শংকর : শুনলাম এখানে আমাকে যারা ডেকেছেন, তারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়ে উৎসাহিত হয়ে আমাকে ডেকেছেন অর্থাৎ ইংরেজি ভাষার পাঠকদের প্রতিও আমার একটা কর্তব্য ঠেকে গিয়েছে। আজ সকালে আমি ভাবলাম_ ঢাকায় এসেছি, দুটো কথা বাংলায় বলব না, এটা কী করে হয়! সে জন্যই ওদের অনুমতি চাইলাম। ওরা সানন্দেই অনুমতি দিলেন। আমার জীবনের প্রথম পর্ব অর্থাৎ প্রথম বইটার কথা কিছু ওদের বলেছি। দ্বিতীয় পর্বটার ব্যাপারে ভেবেছিলাম, যেহেতু ইংরেজি মাধ্যমের আয়োজন; কয়েকটা কথা ইংরেজিতেই বলি। ইংরেজিতে বলার অসুবিধা অনেক। একবার ভাবতে হয় কী বলব, তারপর আবার ভাবতে হয় কেমন করে বলব। এটা শুধু ভাষার ব্যাপারে লজ্জা পাওয়া নয়। আমার এক বন্ধু সিলেটে আছেন। তিনি বললেন, তোমাদের তো খুব সুবিধে, যেখানে বক্তৃতা করতে যাও কী বলবে একটু ভেবে নিলে এবং বক্তৃতা করলে। আমি সিলেটি, আমাকে তো প্রথমে ঠিক করতে হয় কী বলব, তারপর সেটাকে বাংলায় ট্রান্সলেট করতে হয়। আমি বানিয়ে কিছু বলছি না। এখানে একটা জিনিস দেখে ভালো লাগল যে, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি চর্চায় একটা প্রাণের স্পর্শ দেখতে পেলাম। আমার মনে হলো, এটা ভীষণ দরকার। ইংরেজি ছাড়া আমাদের চলবে না। ইংরেজিকে রেখেই আমাদের নিজস্ব সৃষ্টির আনন্দে মত্ত হতে হবে। এবং এটাও শেষ জীবনে এসে বুঝলাম যে, ইংরেজির মাধ্যমে না হলে বিশ্বের অন্যত্র পেঁৗছানো বড় কঠিন। এই চেষ্টা কীভাবে শুরু হয়েছিল? ঠিক একশ' বছর আগে। এই ১৯১০-১১ সালেই রবীন্দ্রনাথ তার ইংরেজি বই ছাপার জন্য কী করেছিলেন সেটা অনেকেই জানেন।
সমকাল : ঢাকায় এসে কেমন লাগছে?
শংকর : চমৎকার অনুভূতি হচ্ছে। এখানকার মানুষের আবেগ আমাকে স্পর্শ করেছে। ঢাকার অভিজ্ঞতা একই সঙ্গে আমার জন্য আনন্দের এবং সমীহের। আমি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছি। আমি মনে করি, যে লেখকরা জীবিত অবস্থাতেই তরুণ পাঠকদের কাছ থেকে স্বীকৃতি ও সম্মান পান তারা ভাগ্যবান।
সমকাল : কয়েকটি প্রজন্ম আপনার মুগ্ধ পাঠক। আপনার নিবিষ্ট পাঠকের তালিকায় পঞ্চাশ-ষাট দশকের মানুষ যেমন আছেন, তেমনি আছেন তরুণতর প্রজন্মের মানুষও। এভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম কীভাবে পেঁৗছালেন?
শংকর : জানি না ভাই। দেখলাম, দেখে আনন্দ হলো এটা বলতে পারি। কোনো প্লান করে, পরিকল্পনামাফিক কিছু করিনি। হবে, এটাও ভাবিনি। পেলাম, এটাই জীবনের সার্থকতা।
সমকাল : আপনি যখন লিখতে শুরু করেন তখন বাংলা বই ও বাঙালি পাঠকের অবস্থা কেমন ছিল?
শংকর : আমার মনে হয় না কিছু বদলেছে। এসব তো শেয়ারমার্কেট নয় যে আজ একরকম, কাল একরকম। একটা ধারাবাহিকতা আছে। একটা নিবিষ্ট পাঠকগোষ্ঠী আছে, যারা বাংলা বই পড়তে পছন্দ করে। আর সংখ্যার দিক থেকে যদি বলেন আমরা যত মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলি তাতে আমাদের দাপট তো অনেক বেশি হওয়ার কথা ছিল। সেটার কতটুকু আর হয়েছে? ফরাসি দেশে ক'টা লোক থাকে, ইতালি-স্পেনে ক'টা লোক আছে? তাদের ভাষায় ক'টা লোক কথা বলে? সে তুলনায় আমাদের ভাষাভাষী মানুষের যে প্রাচুর্য রয়েছে তা তো আমরা এখনও কাজে লাগাতে পারিনি। ভাবুন, আমাদের ভাষায় ২৫ কোটি মানুষ কথা বলে।
সমকাল : সম্প্রতি আপনার সম্পর্কে ইন্টারনেটে খোঁজ-খবর করতে গিয়ে দেখা গেল, সেখানে আপনাকে বাজার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বলা হচ্ছে।
শংকর : এটা কে বলেছে আমি জানি না। কেন বলেছে তা-ও জানি না। আমি বইয়ের মার্কেটিং করিনি। যে যেটা করে না বা জানে না সে অভিধা দেওয়া আমাদের জাতীয় ধর্ম। এ প্রশ্নটা আমি একজনের কাছে শুনলাম। আমি বললাম, মার্কেটিং তো বিষয় নয়, ভালো লিখতে পারি কি-না সেটাই বিষয়। তখন বলল, এক ব্যাগ শংকর বের করেছিলেন, সেটা তো মার্কেটিং। আমি বললাম, তুমি কি বাংলা বইয়ের খবর রাখো? বলো তো, কোন বাংলা বইটা সবচেয়ে জনপ্রিয় এখন পর্যন্ত? সে বলল, কোনটা? আমি বললাম, 'ঠাকুরমার ঝুলি'। ঠাকুরমার ঝুলিই আমার বেলায় এসে ব্যাগ হয়েছে। এর মধ্যে মার্কেটিংয়ের কী আছে? যদি বলতে বাজে লিখে প্রতারিত করেছে লেখক তবে তা বলো। ইচ্ছা হলে বলো। আমি তো কোনো কিছু দাবি করিনি।
সমকাল : কিন্তু আপনি তো মার্কেটিং নিয়ে গবেষণামূলক কাজ করেছেন।
শংকর : আমি বিশ্বাস করি বাঙালিকে ব্যবসায় আসতে হবে।
সমকাল : আপনি বলছিলেন, বিত্তসাধনার ব্যাপারে।
শংকর : হ্যাঁ, বিত্তসাধনায় আমি বাঙালির অগ্রযাত্রা দেখতে চাই। আর এজন্য লেখকদের কিছু ভূমিকা থাকতে হবে। আমরা তো আর কিছু পারি না, উৎসাহ দিতে পারি।
সমকাল : আপনি বলছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বাঙালি পিছিয়েছে।
শংকর : শুধু পশ্চিমবঙ্গ কেন, সব জায়গাতেই পিছিয়েছে। বিত্তসাধনায় আমরা পিছিয়ে গিয়েছি।
সমকাল :আপনি বলছেন এতদিন পর এলাম, এতদিন পর পুনরায় আবিষ্কৃত হলাম_ এবারের ভ্রমণ নিয়ে কি লিখবেন?
শংকর : লোভেরও তো একটা শেষ থাকা দরকার। লোকে বলবে, বুড়ো আর কতদিন জ্বালাবে। এতদিন নাকি একজন ভেবেছে যে, বুড়ো মরে গেছে। বিদায় হয়েছে আর কিছু করবে না। কিন্তু বেঁচে আছে শুনে বলছে, ওরে বাবা বেশি কিছু বলা যাবে না, তাহলে আবার কী করবে কে জানে। আবার গ্যাজ গ্যাজ করতে শুরু করবে। সেজন্য মধ্যদিনের পাখি অনেক সময় চায় গান বন্ধ হোক।
সমকাল : আপনি 'চৌরঙ্গী' লিখলেন। তারপর তো নিউমার্কেট হয়েছে। এখন তো শহর কত বদলেছে।
শংকর : বয়স একটু কম থাকলে নিউমার্কেট নিয়ে লেখা যেত, মন্দ হতো না। কারণ একে একটা যুগ বলতে পারেন। এই যে কতদিন ধরে কত মল-টল কী হচ্ছে! তাতে নিউমার্কেট টিকে থাকবে কি-না জানি না। কিন্তু ব্যবসায়ে বাঙালি, বিত্তের সাধনায় বাঙালির শেষ কতগুলো সাধনার চিহ্ন ওখানে থেকে গেছে। বাঙালির তো কিছুই থাকে না। সবই গেছে। আপনাদের এখানে দেখলাম, এখানে যত ভালো ভালো বাড়ি আছে সব নাকি বাঙালির। আমি বললাম, কেন ভাই আমাকে মিথ্যে কথা বলছ। আমাকে বলল_ না, এটা সত্যি। তার মানে পৃথিবীর একমাত্র সত্যি শহর ঢাকা, যেখানে এখনও বাঙালির বাড়িঘর সব কিছু রয়েছে। এটা আমাকে বিশ্বাস করতে হচ্ছে। আমাদের ওখানে আর সত্য নেই। আপনাদের এখানে এসে ভালো লাগছে। ফিউচার তো জানি না, তবে বর্তমান বলছে এগুলো বাঙালিদের বাড়ি। এটা কত বড় আনন্দের কথা তা আমি আপনাদের বিশ্বাস করাতে পারব না। ভীষণ আনন্দ পেলাম, জানেন? সত্যি, বিত্তসাধনায় বাঙালিকে আবারও জেগে উঠতে হবে।
সমকাল : লেখক হতে গেলে কী লাগে?
শংকর : লিখতে চাইলেই লিখবেন। এর জন্য তো লাইসেন্স লাগে না। মদের দোকান খুলতে গেলে লাইসেন্স লাগে, ড্রাইভিং করতে চাইলে লাইসেন্স লাগে। লেখক হতে গেলে কোনো অ্যাপ্লিকেশনও করতে হয় না।
সমকাল : আপনি কীভাবে লিখতে শুরু করলেন?
শংকর : সেটা পাকেচক্রে ঘটেছে। আমাদের পরিবার খুব সংগ্রামী ছিল। আমার বাবা যশোরের বনগাঁ থেকে কলকাতার কাছে হাওড়ায় মাইগ্রেট করেছিলেন। আমার বাবা অসুখে ভুগে মারা গিয়েছিলেন তিন সন্তান রেখে। আমি আমার বাবার দ্বিতীয় বিবাহের দ্বিতীয় সন্তান। আমার তেরো বছর বয়সে বাবা মারা যান। আমার মা ইন্স্যুরেন্স পলিসির ওপর ভর করে সংসার চালাতেন। আমার বয়স যখন ১৬ তখন মা আমাকে বলেছিলেন, আমাকে আয় করতে হবে। তখন আমার দেখা হলো নোয়েল ফ্রেড্রিক বারওয়েলের সঙ্গে। তিনি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এবং ব্রিটিশ বারের সদস্য। তার দফতরে আমি ক্লার্ক হিসেবে যোগ দিলাম। বারওয়েলের উৎসাহে তার দফতরে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে আমি লিখলাম আমার প্রথম বই। এভাবেই ৭০ রুপি মাসিকে চাকরি করা একটি বালক লেখক হয়ে গেল। আমার অনুতাপ একটাই, আমার নামের মণিশংকর মুখার্জির প্রথম ও শেষ অংশ কেটে ফেলে শুধু শংকর নামেই বের হলো 'কত অজানারে'। ৫০ বছর পরও বইটির কথা মানুষ মনে রেখেছে, এটা আমার আনন্দ। আরও খুশীর ব্যাপার হলো ঢাকা থেকে ফিরে নভেম্বরেই আমি বইটির ইংরেজি অনুবাদ দেখতে পাব। দেরিতে হলো, তবু ভালো।
১৯৫৪ সালে আমি দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে 'কত অজানারে' লিখতে শুরু করেছিলাম। লেখাটি পাঠকপ্রিয় হয়েছিল এবং সেটাই আমার কাল হলো। দেশ পত্রিকার একজন শ্রদ্ধেয় বড় কর্তা চাইলেন বিনাপয়সায় আমি যেন বইটি একজন প্রকাশককে ছাপতে দিই। আমাকে না জানিয়েই তিনি প্রকাশের ব্যবস্থা করে ফেললেন। দেরি না করে বইপাড়ায় গিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করতে বললেন। আমি ছিলাম গরিব কেরানি। আমি তাকে না বলতে পারিনি।
সমকাল : আপনি শহুরে জীবন নিয়ে লিখেছেন মূলত।
শংকর : একটা শহরকে বুঝতে হলে দেখ, সেখানে মানুষের অবস্থা কী? হাউ দে লিভ, লাভ, লাই এবং ডাই। লাই শোয়া অর্থে, আবার মিথ্যা অর্থেও। এই চারটি ব্যাপার খেয়াল করলে একটি শহর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। আমি শহরকেই জানি, শহরেই থেকেছি। সেটাই লিখেছি। যে যা জানে তাকে তো সেটুকুর মধ্যেই থাকতে হবে।
সমকাল : শহুরে মধ্যবিত্তের জীবন নিয়ে লেখার ক্ষেত্রে আপনি বাংলা ভাষায় অগ্রগণ্য সাহিত্যিক।
শংকর : আমার বিশেষ কিছু দাবি নেই। আমি সেটা বলব না। পাঠকরা ভালোবেসেছে সেটাই আমার সম্বল। তখন বোদ্ধারা বলত বাজে লেখা। এখন সাহেবরা বলছে, তাই হয়তো তাদের মত বদলেছে। তাদের মনে হচ্ছে, তাহলে বোধহয় কিছু থাকলেও থাকতে পারে এর লেখার মধ্যে।
সমকাল : বাংলা ভাষায় আপনার প্রিয় লেখক কারা ছিলেন?
শংকর : অনেকেই ছিলেন। মৃতদের মধ্যে গুরু শরৎচন্দ্র। আর জীবিতদের মধ্যে যাদের পেয়েছি তাদের মধ্যে বিমল মিত্র আছেন, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। আলী সাহেব আছেন। সৈয়দ মুজতবা আলী। এদের সঙ্গে আমার যথেষ্ট দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছিল।
সমকাল : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
শংকর : আপনাদেরও ধন্যবাদ।

Tuesday, October 26, 2010

পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছো?

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসটি পড়া থাকুক বা না থাকুক, উপন্যাসের একটি লাইন অনেকেরই জানা। 'পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছো?' নবকুমার সহযাত্রীদের রান্নাবান্নার সহযোগিতা করার জন্য বনে গিয়েছিল। তার ফিরে আসার দেরি দেখে সহযাত্রীরা ভেবেছিল, নবকুমারকে বাঘে খেয়েছে। তারা নদীর ধারের নির্জন বনে নবকুমারকে রেখে বাড়ি ফিরেছিল। আর নবকুমার বনে বনে ঘুরতে ঘুরতে সহসা এ প্রশ্নের মুখে পড়েছিল যে, সে পথ হারিয়েছে কি-না? প্রশ্ন করেছিল কপালকুণ্ডলা, উপন্যাসের নায়িকা। এই প্রশ্নের পর নবকুমারের জীবন ও 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস উভয়ের মোড় ঘুরে গিয়েছিল। কিন্তু সে কাহিনীর পিছু ধাওয়া করা এখন আমাদের উদ্দেশ্য নয়। পথিকের পথ হারানোর এই কৌতুক ও শ্লেষপূর্ণ বাক্য কেন আমাদের সমাজে এত জনপ্রিয় হলো সেটাই প্রকারান্তরে আমাদের জিজ্ঞাস্য। বাঙালির সমাজ-ইতিহাস গভীর অভিনিবেশ সহকারে পর্যালোচনা করেন তাদের অনেকেই বলেন, বাঙালি পথহারা। অর্থাৎ যে পথে এই জাতির চলার কথা ছিল সে পথে তারা এগিয়ে যেতে পারেনি। কি রাষ্ট্রে, কি রাজনীতিতে, কি ব্যবসায়, কি শিল্পায়নে, কি সাহিত্যে বাঙালির নাকি প্রভূত উন্নতি করার কথা ছিল। কিন্তু বাঙালি তেমন কিছু করতে পারেনি। আজকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক জাতির বাঙালির চেয়ে কম সম্ভাবনা ও মেধা নিয়ে উন্নতির শিখরে পেঁৗছে গেছে। কিন্তু বাঙালির ভাগ্য যে লাউ সেই কদুই রয়ে গেছে। কারণ, আমরা নাকি পথভ্রষ্ট। ভুল পথে এগোতে গিয়ে সহসা থমকে পেছনে ফিরে কেঁচে গণ্ডূষ করাই নাকি আমাদের রীতি। বাংলাদেশ আকারে ছোট। এখানে শহর হোক কি গ্রাম সেখানে পথ হারিয়ে ফেলা বড় কষ্টকর। নিতান্তই শিশু ও ভুলোমন না হলে বাংলাদেশে কোথাও পথ হারানো কষ্টের কাজ। তারপরও 'পথহারা পথিক' আমাদের প্রিয় শব্দবন্ধ। আমাদের কত কবিতা গানে যে পথ হারানোর কথা আছে সে নিয়ে বিশাল গবেষণা হতে পারে। অনেকের মনে পড়বে কবি রবীন্দ্রনাথের গানের সেই বাণী_ 'আমি পথ ভোলা এক পথিক এসেছি/ সন্ধ্যাবেলার চামেলি গো/সকাল বেলার মলি্লকা/আমায় চেন কী?' পথিক নিজেই বলছেন এখানে যে, তিনি পথ হারিয়েছেন। কিন্তু পথ খোঁজার কোনো চেষ্টা নেই, তিনি বরং মলি্লকা-চামেলিরা তাকে চিনতে পারল কি-না এ নিয়েই চিন্তিত। বেশ বোঝা যাচ্ছে, পথ হারানো আমাদের কাছে কতটা প্রার্থিত, কতটা আয়াসসাধ্য এবং কত রোমান্টিক ব্যাপার। কেউ কেউ বলেন, বাঙালির যৌথ অবচেতনার ভেতরই নাকি পথ হারানোর ব্যাপারটি কাজ করে। জাতিগতভাবে পথ হারাবার কোনো সমাধান নেই, ফলে ব্যক্তিগতভাবে পথ হারাতেই আমাদের আনন্দ। আমাদের মহাজনরা যে পথে পথ হারিয়েছেন, সে পথেই পথ হারাতে পেরে আমরাও খুশি। কিন্তু মহাজনরা যদি শুনতেন যে, বাঙালির অন্যতম বৃহত্তম নগরী ঢাকায় পথ নিজেই হারাতে বসেছে, তবে কী ভাবতেন? সোমবারের সমকালে সচিত্র একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, পথিকের পথ দখল হয়ে গেছে। কোথাও গাড়ি পার্কিং, কোথাও হকার, কোথাও নর্দমা, কোথাও ডাস্টবিন। কত কি যে পথিকের পথ দখল করে বসে আছে! এ শহরে কেউ যদি হেঁটে গন্তব্যে পেঁৗছাতে চায় তবে সে কাজ যে কতটা ক্লেশকর হবে তা একবার পথে নামলেই বোঝা যায়। শহরে সত্যি পায়ে চলার পথ নেই। গাড়ি চলার পথ কি আছে? সে প্রশ্নের সুরাহা করতে হলে আরও বড় আলোচনা ফাঁদতে হবে। পত্রিকায় ইদানীং কিছু লেখা চোখে পড়ল, তাতে লেখক বলছেন, ঢাকায় সাইকেল চালাবার ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এমন দখল হওয়া রাস্তায় বসে সাইকেল চালানোর চিন্তা_ ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখার মতো ঘটনাই বটে। বাংলার পথিক এতদিনে এসে পথ হারাইয়াছে, এই ঢাকা শহরে। আগে পথ ছিল, পথিক পথে দিকদিশা হারাইতো। আমাদের মহাজনরা তাকেই বলতেন পথ হারানো। এখন পথিক সত্যই পথ হারাইয়াছে। কিন্তু মহাজনরা
নাই, এ হারানো সংবাদ নিয়া
কে লিখিবে?

Thursday, October 21, 2010

বিত্ত সাধনায় বাঙালির অগ্রযাত্রা দেখতে চাই :শংকর


বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক শংকর এখন ঢাকায়। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) আমন্ত্রণে ছয় দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে গতকাল তিনি তার বিখ্যাত উপন্যাস 'চৌরঙ্গী' রচনার প্রেক্ষাপটসহ লেখালেখি ও জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এবারই প্রথম বাংলাদেশে এলেন শংকর। পুরো নাম মনিশংকর মুখার্জি হলেও কয়েক প্রজন্মের বাঙালি পাঠকের কাছে তিনি প্রিয় লেখক শংকর নামে পরিচিত। সমকালকে জানান, বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গেছেন অনেকবার, বিমানবন্দরে নেমেছেন; কিন্তু লেখক হিসেবে বাংলাদেশে আসা এই প্রথম। দুঃখ ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, দেশ পত্রিকায় 'কত অজানারে' প্রকাশ শুরু হওয়ার পর সেই ১৯৫৫ সালেই তার বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) আসার কথা ছিল। কিন্তু লেগে গেল আরও ৫৫টি বছর। কারণ হিসেবে দায়ী করলেন ভাগ্যের বিড়ম্বনাকে। জিজ্ঞেস করা হলো, লোকে
আপনাকে বই বিপণনের পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করে। আপনি কয়েক প্রজন্মের লাখো পাঠকের কাছে কীভাবে পেঁৗছলেন? তিনি বললেন, পাঠক ভালোবেসে বই পড়েছে। কেন পড়েছে সে কথা কী আমি জানি? যারা বিপণনের পথিকৃৎ বলে তারা হয়তো আমার সাহিত্যের কাটতির দিকে ইঙ্গিত করে। তারা তো আমাকে সাহিত্যিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চায় না। এখন ইংরেজরা আমার মূল্যায়ন করছে বলে তাদের আগ্রহও বেড়েছে।
প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্ত-পাঠকরা তাকে প্রশ্ন করলে স্বভাবসুলভ শান্তভঙ্গিতে হাস্যরসের মধ্য দিয়ে তিনি উত্তর দেন। পাঠকদের প্রশ্নের উত্তরে শংকর বলেন, 'বাঙালি সর্বত্রই বিত্তের সাধনায় পিছিয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের কথা জানি না, তবে পশ্চিমবঙ্গে তারা পিছিয়ে পড়েছে। আমি বিত্তসাধনায় বাঙালির জয়যাত্রা দেখতে চাই।' তিনি লন্ডন সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, সেখানে গিয়ে তিনি বাংলাদেশিদের পরিচালিত রেস্টুরেন্ট দেখতে গিয়েছিলেন। তার মতে, আজ যে চিকেন টিক্কা মাসালা ইংল্যান্ডের জাতীয় ডিশে পরিণত হয়েছে এটি ইংরেজের ওপর আমাদের মধুর প্রতিশোধ। আর এ প্রতিশোধ নেওয়ার অধিকার শুধু বাঙালির আছে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইইউবির স্থায়ী ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতেই লেখককে স্বাগত জানান অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা খান। সম্মানসূচক 'উত্তরীয়' পরিয়ে দেন আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক বজলুল মোবিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে দর্শকসারিতে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেছিলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ফারুক চৌধুরী, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ফারুক সোবহান, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর প্রমুখ। প্রশ্নোত্তর শেষে যখন অটোগ্রাফ নেওয়ার পালা এলো তখন পিছিয়ে ছিলেন না বিশিষ্ট অতিথিরাও।
১৯৩৩ সালে যশোরের বনগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আইনজীবী বাবা হরিপদ মুখোপাধ্যায় ভাগ্যের সন্ধানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর আগেই হাওড়ায় চলে আসেন। সেখানেই বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং সাহিত্য-সাধনার শুরু। জীবনের শুরুতে টাইপিস্ট, ক্লার্কসহ বিভিন্ন কাজ করেছেন। এক ইংরেজের অনুপ্রেরণায় লেখালেখি শুরু করেন। প্রথম বই বের হওয়ার সময় তার বয়স ছিল আঠারো। বয়স কম বলে প্রকাশকের পরামর্শে লোকের সামনে লেখক পরিচয় দিতেন না। প্রকাশক বলেছিলেন, চেহারায় নয়, গল্পের মাধ্যমেই পাঠক তাকে চিনবে।
শংকরের বিখ্যাত উপন্যাস 'চৌরঙ্গী' নিয়ে তৈরি হয়েছে বিখ্যাত সিনেমা। সত্যজিৎ রায় তারই কাহিনী অবলম্বনে নির্মাণ করেছেন 'জন অরণ্য' ও 'সীমাবদ্ধে'র মতো চলচ্চিত্র। ইংরেজি ভাষায় তার বিখ্যাত বইগুলো অনুবাদ হতে শুরু করেছে সম্প্রতি। শহুরে মধ্যবিত্ত জীবনের সাহিত্যিক রূপায়ণে তাকে পথিকৃৎ হিসেবে উল্লেখ করেন সমালোচকরা। কেন শহুরে জীবন তার লেখার বিষয় হলো? এ প্রশ্নের উত্তরে শংকর অসঙ্কোচে জানান, আর কিছু যে জানি না। ওই জীবনও যে ভালো করে জানি সেও বলতে পারি না।
স্বভাবে ভীষণ বিনয়ী, মার্জিত ও নিরহঙ্কারী লেখক বললেন, লেখকের মধ্যে আত্মপ্রসাদ সৃষ্টি হলে তার বিষময় ফল তৈরি হয়। লেখক শংকর ২৪ অক্টোবর সকালে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

Thursday, September 30, 2010

কেশাকেশি


বাংলা একাডেমীর 'ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে' চুলোচুলি বা চুলাচুলির প্রতিশব্দ কেশাকেশি। পরস্পর চুল টানাটানি করে যে মারামারি তাকে চুলাচুলি বলা হয়। অভিধান ইঙ্গিত দিচ্ছে, 'চুলাচুলি' বললে তাতে চুলের ব্যবহার থাকুক বা না থাকুক শব্দটি দিয়ে ভীষণ ঝগড়া বা কলহ বোঝায়। অভিধান যা-ই ইঙ্গিত দিক চুলোচুলিতে চুলের ব্যবহার না থাকলে তাকে চুলোচুলি বলতে অনেকেরই বাধবে। আর চুলের প্রসঙ্গ এলে এসে যাবে চুলের মালিকদের কথাও। লম্বা চুলের ফ্যাশনেবল তরুণদের দেখা এখন পথে-ঘাটে অনেক মেলে। সে তরুণরা যদি কলহ করতে গিয়ে চুলোচুলি করে তবে নিশ্চয় গণমাধ্যমে সেটি 'চুলোচুলি' হিসেবে খবর হবে কি-না আপাতত এ প্রশ্ন তোলা থাকল। কারণ যারা শিক্ষাঙ্গনে কলহ করে তারা লম্বা চুলো বা টেকো মাথা যাই হোক না কেন ছেলে হলে সংঘর্ষের ধরনই হয় আলাদা। চুল ধরে মারামারি না করে লাঠিসোটা কিরিচ চাপাতি ব্যবহার করতেই তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর প্রস্তুতির সময় পেলে পিস্তল-বন্দুক এসে পড়াটাও অস্বাভাবিক নয়। পিস্তল-বন্দুক এলে দু'চারটি লাশ পড়া, পাঁচ-দশজন আহত হওয়াও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। দোতলা-তিনতলা-চারতলা থেকে ফেলে আহত-নিহত করার নতুন কায়দাও শিক্ষাঙ্গনগুলোতে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ইডেন কলেজ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা যে রক্তপাতহীন চুলোচুলি করেই ক্ষান্ত হলেন। লাঠিসোটা নিয়ে মাঠে নামলেন না, দু'চার রাউন্ড গুলি ফোটালেন না, কিংবা হলের ছাদ থেকে সহপাঠীদের ফেলে দিলেন না, সেজন্য তাদের ধন্যবাদ দেওয়াই যেতে পারে। কিন্তু আমাদের মিডিয়া বড় বেরসিক। মেয়েরা খুনোখুনি করল না, লাশ ফেলল না তবু হৈচৈটা এমন হলো যেন একেকটা লাশের চেয়ে একেকটা চুলের দাম বেশি! সব পত্রিকা কেমন ফলাও করে ছেপেছে, শহরে-গ্রামে এ নিয়ে রসাল কথাবার্তাও হচ্ছে বেশ। নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ চলছে। এখন সরকারি দলের কেউ বিবৃতি দিয়ে মেয়েগুলোকে অনুপ্রবেশকারী শিবির-ছাত্রদল না বললেই হয়। অবশ্য শিবির-ছাত্রদল না হলে প্রধানমন্ত্রীর ছবি এভাবে লুটিয়ে ফেলতে পারে কেউ? চিন্তার বিষয় বটে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা শীর্ষ নেতা-নেত্রীদের ব্যাপারে অনেক সচেতন। কোথাও ছবি ঠিকমতো টাঙানো না থাকলে মামলা ঠুকে দেন। ক'দিন আগে পত্রিকায় দেখলাম, প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে ধুলা জমেছে বলে একটা মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে। বেশ, এখন এইভাবে জন্মদিনের দিন প্রকাশ্য দিবালোকে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ধুলায় লুটিয়ে চুলোচুলি করার মতো অপরাধে নারী শিক্ষার্থীদের কী শাস্তি হয় সেটি এখন দেখার বিষয়।
ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের মানমর্যাদার কথা যদি বিবেচনা করা হয় তবে ঘটনাটি চেপে যাওয়াই উত্তম হবে। কিন্তু ছবি যেভাবে ছাপা হলো তাতে কি চাপা দিলেই চেপে যাওয়া সম্ভব?
তবে উপায় কী? আগে যেমনটি বললাম, সেইভাবে যদি নেতাদের কেউ এসে বলেন, এরা শিবির-ছাত্রদল, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনকে হেয় করতেই এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তবে বড় বাঁচা। উদোর পিণ্ডি বুধো সামলাবে তখন।
আরেক কাজ করা যায়, এ রীতি এখন বেশ কল্কে পেয়েছে। কাউকে সাহস করে বলতে হবে, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। গণমাধ্যম অতিরঞ্জন করেছে। ব্যস, সবাই বিশ্বাস করবে! নয়তো কোনো ফোরামে ছাত্রলীগের মধ্যকার এমন সংঘর্ষের ছবি ছাপাবার দায়ে মিডিয়ার বিচার দাবি করা যায়। ছাত্ররা মারামারি করবে, করুক। ছাত্রীরা চুলোচুলি করবে, করুক। দলীয় নেতাকর্মীরা বিনাপরীক্ষায় চাকরি, বিনাটেন্ডারে কাজ, বিনাআয়াসে কামাই এখন করবে না তো বিএনপি আমলে করবে? অতএব, চলুক না। মিডিয়া শুধু শুধু বাড়াবাড়ি করে। ওরা কি জানে না, বাড়াবাড়ি করলে অন্যেরা
সুযোগ নেয়?

Monday, September 20, 2010

গরু-ভীতি


'গ রু অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের গৃহপালিত পশু। ইহার একটি মাথা, দুইটি কান ও একটি লেজ আছে। লেজের মাথায় একগুচ্ছ কেশ দিয়া গরু মশা-মাছি তাড়ায়।' এমনিভাবেই অত্যন্ত উপকারী এ প্রাণীটি নিয়ে বাংলার ঘরে ঘরে ছেলেমেয়েরা প্রথম রচনা লিখতে শুরু করে। পৃথিবীতে এত কিছু থাকতে শিক্ষকমণ্ডলী কেন রচনা লেখার হাতেখড়ি দিতে গরুর কথা স্মরণ করেন তা বের করা মুশকিল। গরুদের প্রতি গুরুদের এই অভাবিত ভক্তির কারণে বাংলার শহর-গ্রাম নির্বিশেষে সবার কাছেই গরু পরিচিত প্রাণী। শুধু পরিচিত নয়, রচনার ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয়, গরুর উপকারের শেষ নেই। 'ইহার চামড়া হইতে জুতা, ব্যাগ প্রভৃতি তৈরি হয়। গরুর দুগ্ধ প্রতিদিন আমরা পান করি। দুগ্ধ হইতে মিষ্টান্নও প্রস্তুত হয়। অর্থনীতিতে গরুর অবদান বলিয়া শেষ করা যায় না।' এমন উপকারী প্রাণী যখন বিপদে পড়ল, যখন অ্যানথ্রাক্সে মারা পড়তে থাকল একে একে, তখন অনেকে একে গরু জাতির সমস্যা হিসেবেই দেখতে শুরু করেছিলেন। ভেবেছিলেন, মানবজাতিকে এ রোগ স্পর্শ করবে না। কিন্তু ক্রমে মানবজাতিকেও অ্যানথ্রাক্স আক্রমণ করল। বলা হলো, অ্যানথ্রাক্স হলো পরিচিত তড়কা। মনে হলো, অনেকে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন, যেন 'ওহ তড়কা, সেরে যাবে।' কিন্তু তড়কা না সেরে তড়াক তড়াক করে বেড়েই চলেছে। প্রথম প্রথম মেদভুঁড়ি নিয়ে চিন্তিত লোকেরা ভেবেছিলেন, ভালোই হলো, অ্যানথ্রাক্সের ভয় কাজে লাগিয়ে কিছুদিন মেদ কমিয়ে নিই। আবার যারা শখের ভেজিটারিয়ান তারা ভাবলেন, অবশেষে সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। মুরগি ব্যবসায়ীরা কিছুদিন জমজমাট ব্যবসা করলেন। বার্ড ফ্লুর সময় সবাই যেভাবে মুরগির বাজারের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে গরুর বাজারের দিকে ছুটেছিলেন, তার উল্টোটা ঘটল এবার। দেখতে দেখতে এক মাস অতিক্রান্ত হলো। এখন ধীরে ধীরে মালুম হচ্ছে, রোগটি নানা স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। গরু ব্যবসায় মন্দা, মাংস ব্যবসায় মন্দা, চামড়া ব্যবসায় মন্দা, শোনা যায় দুধ খেতে গিয়েও লোকে এখন ভাবছেন, অ্যানথ্রাক্স হবে কি-না। ভীতির মা-বাপ নেই, ছড়াতে থাকলে থামে না। শোনা যাবে কিছুদিনের মধ্যে গরুর চামড়ায় প্রস্তুত স্যান্ডেলও পরতে চাইছেন না ভীত মানুষজন। গুজবের চেয়ে শক্তিশালী ভীতি এখন সারাদেশে। গরুর মাংসের দোকানে মাছি উড়ছে, ক্রেতা আসছে না। বিক্রেতা বাহারি রান, সিনা ঝুলিয়ে ঘুমাচ্ছেন। আর মাংস ব্যবসায়ী সমিতি বলেছে, ১৫ দিনের মধ্যে গরুগুলোকে ভ্যাকসিন দিন, নইলে কঠোর কর্মসূচি। দুগ্ধ, চামড়া, জুতা ব্যবসায়ীরা অনুরূপ দাবি নিয়ে মাঠে নামবেন বোঝা যাচ্ছে স্পষ্ট। ঈদুল আজহা এলে গরু মোটাতাজা করা কৃষক, ব্যাপারিদের দাবি কেমন হবে একটু ভাবা যেতে পারে। দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে সেটি নিশ্চিত করে বলে দেওয়া যায়। কোরবানির আগে সমস্যার সমাধান না হলে কী উপায় হবে সে ভাবনা এখনই ভাবতে হবে। ফলে দেরি না করে এখনই ভ্যাকসিন দিতে হবে। সব গরুকে ভ্যাকসিন দিয়ে অ্যানথ্রাক্স তাড়াতে হবে। মানুষের দেহে সংক্রমিত জীবাণুর ধ্বংসের যাবতীয় আয়োজনও শেষ করতে হবে। দায়িত্বশীলরা এই ক্ষেত্রে বসে থাকলে চলবে না। কিন্তু প্রশ্ন অন্যত্র। আর প্রশ্নটা মাংস ব্যবসায়ীদের কাছেই, সব গরু তো আর অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত নয়। আর তারাও নিশ্চয়ই রোগাক্রান্ত গরু জবাই করছেন না। নিশ্চয়, রোগমুক্ত গরু নিয়মমতো জবাই করে, ভালো মাংসই সাজিয়ে রাখছেন দোকানে। কিন্তু লোকে ভরসা পাচ্ছে না কেন? লোকের ভরসা তো আর পুলিশ ডেকে বাড়ানো যাবে না। মাংসের খাঁ খাঁ করা দোকানে ক্রেতা ফিরিয়ে আনতে হলে ক্রেতাদের আস্থা বাড়াতে হবে। গরুকে ভ্যাকসিন দিলে মানুষের আস্থা বাড়বে কি?

Saturday, September 18, 2010

ঈদের সপ্তম দিন


রোজা শেষ। ক্যালেন্ডার ও রীতি অনুসারে ঈদও শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বঙ্গদেশে ঈদ যেন যাওয়ার উদ্দেশ্যে আসে না। আজ যাই কাল যাই করে করে ঈদ এবার সপ্তম দিনে পদার্পণ করল। বিশ্বাস না হলে টিভি খুলে দেখুন। বাহারি বিজ্ঞাপনে টিভিগুলো ক্ষণে ক্ষণেই জানিয়ে দিচ্ছে আজ ঈদের কততম দিন আর এ উপলক্ষে কী কী আয়োজন নিয়ে তারা দর্শকের সামনে হাজির হবে। ঢাকার রাস্তার দিকে তাকালেও টিভির আয়োজনের যথার্থতাকে ভুল বলে মনে হবে না। ১১ সেপ্টেম্বর ঈদ পালিত হলে ১২ তারিখেই অধিকাংশের ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। ছুটির নিয়ম অনুসারে সোমবার পুরোদমে অফিস শুরু হবে, রাস্তায় কর্মব্যস্ত মানুষের ভিড় তৈরি হবে, যানে যানে জট লাগবে_ এও খুব প্রত্যাশিত ব্যাপারই ছিল। কিন্তু সোমবারের ঢিলেঢালা অফিস বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢিলেঢালাই রয়ে গেল। দোকানপাট, মার্কেট, হোটেল-রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত পুরো সপ্তাহজুড়ে বন্ধই থাকল প্রায়। পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছে, আমাদের কর্মবীররা সপ্তাহটিকে কাবার করে শনিবারের ছুটিটা আরামে কাটিয়ে রোববার নাগাদ কাজ শুরু করার মহাপরিকল্পনাই হাতে নিয়েছেন। দোষ কাকে দেবেন? সরকারকে? রমজান মাসে সরকারি আদেশে স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল বটে কিন্তু ঈদের পর দোকানপাট বন্ধ রেখে, ঢিলেঢালা অফিস করে সপ্তাহ গুজরান করার নির্দেশ তো সরকারের পক্ষ থেকে আসেনি। তবে কি টিভি চ্যানেলগুলোকেই দোষ দেব আমরা? ওরা একদিনের ঈদের খুশিকে ৭ দিনে প্রবাহিত করল বলেই না এমনটি হলো! এমন কথা কেউ বলতে পারেন। কিন্তু ভুক্তভোগীরা বলছেন অন্যকথা। বিজ্ঞাপনের ভিড়ে ঢাকার চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান নাকি অনেকেরই দেখা হয়ে ওঠে না। এখানকার দর্শকরা নাকি শুধু ৭ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে কোন টিভিতে কী আয়োজন হচ্ছে, তার বিজ্ঞাপনই দেখেন। আশ্বস্ত হয়ে বলেন, ভাবতে ভালো লাগে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এক ঈদেই কত অনুষ্ঠান। আর চ্যানেল ঘুরিয়ে হিন্দি সিনেমা ও সিরিয়াল দেখে দিন পার করে দেন। বিজ্ঞাপনের বাহার আছে, রঙের ব্যবহার আছে কিন্তু অন্তঃসারের বেলা নাকি আমাদের অনেক অনুষ্ঠানই পাতে তোলার মতো নয়। শত শত অনুষ্ঠান, নাটকের পর যখন পত্রিকার পাতায় মূল্যায়নের আসর বসে তখন নাকি পাঁচ-দশটি ভালো কাজ খুঁজে বের করাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।
আশা করা যায়, ঈদের সপ্তম দিনের মতো নবম থেকে পঞ্চদশ দিন পর্যন্ত সবার ভালো কাটবে। কর্মবিমুখ অলস জাতি হিসেবে আমাদের যে সুনাম নিজেদের মধ্যেই ছড়িয়েছে, তাতে রোজার দোহাই দিয়ে এক মাস আর ঈদের দোহাই দিয়ে আরও ১৫ দিন কাটিয়ে দিলে কেউ টুঁ শব্দটিও করবে না। অবশ্য শুধু আলস্যের দোহাই দিলেই চলবে না, আতিশয্যও কি কম আমাদের? ঈদ আসছে, ঈদ এসেছে, ঈদ যাচ্ছে_ এ নিয়ে টিভি চ্যানেলগুলোর কোনায় কোনায় স্থায়ী আইকন ঝুলছে। শুধু ঈদ কেন, জাতীয় জীবনের কত কিছুই তো একদিনে পার করে দিতে পারলে আমাদের আর মন ভরছে না। মাসের একদিন হয়তো বিশেষভাবে স্মরণীয়, শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের কিন্তু তাতে আমরা পরিতৃপ্ত নই। মাসজুড়ে পত্রিকার কোনায়, টিভির কোনায় ঝুলছে মাসের স্মারক। এপ্রিলে হয়তো ৫ তারিখ আনন্দের দিন। কিন্তু আমাদের রীতি হলো পুরো এপ্রিলকেই আনন্দের মাস ঘোষণা করে নানা আয়োজনে ভরিয়ে তোলা। আনন্দবহ এপ্রিল শিরোনাম দিয়ে পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখা। আর এসব আয়োজন, কথা, আলোচনার মধ্যে সৃজনশীলতার স্বাক্ষর কতটা থাকে তা নিশ্চয়ই গবেষণার বিষয়। কিন্তু পুনরাবৃত্তি যে বেশ থাকে তা স্পষ্ট। ফলে আয়োজনের মধ্যে আন্তরিকতার চেয়ে দেখানোর ব্যাপারটাই বেশি গুরুত্ব পায়। আলস্যের পাশে তাই আতিশয্যের স্থান বিশেষভাবে দিতে হবে। ঈদের ক্ষেত্রেও এই আতিশয্যের কথা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। নইলে কি আর একদিনের ঈদ সপ্তম দিনে এসেও আমাদের দ্বিপ্রাহরিক ঘুমের নিরাপত্তা দিতে পারে?

Thursday, September 2, 2010

ভোভা ও দিমা






ভোভা ও দিমা অত্যন্ত পরিচিত জুটি। বাংলা সিনেমায় উত্তম-সুচিত্রা যেমন তেমনি রাশিয়ার রাজনীতিতে ভোভা ও দিমা জনপ্রিয় জুটি। একজন প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন (ভোভা) আরেকজন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ (দিমা)। ভোভা ও দিমার সম্পর্ক নিয়ে বিশ্ববাসীর আগ্রহ প্রচুর। তাই মিডিয়াও তাদের দিকে খেয়াল রাখে। এই গ্রীষ্মে ভোভা ও দিমা কী করলেন সে নিয়ে ফরেইন পলিসি ম্যাগাজিন একটি ফটো ফিচার প্রকাশ করেছে। এই ফিচারের সঙ্গে তারা জুড়ে দিয়েছে গত গ্রীষ্মের ছবিও। দেখা গেল, ২০০৯-এর গ্রীষ্মে ভোভা ও দিমা একসঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ সময় কাটিয়েছেন। কিন্তু ২০১০-এর গ্রীষ্মে প্রধানমন্ত্রী ভোভা যখন তিমি শিকার করে, দেশ ঘুরে, অগি্নকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রাশিয়া তদারক করে বেড়িয়েছেন, তখন দিমা রাশিয়ার রিসোর্ট সিটি সোচিতেই বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন। ফরেইন পলিসি ম্যাগাজিন রসিক বটে। একটির পর একটি ছবি সাজিয়ে ভোভা ও দিমার দূরত্বটা বোঝানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু আসলেই কি পুতিন ও মেদভেদেভের মধ্যে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়েছে?

১৯৯৯ সালের শেষ দিন বরিস ইয়েলৎসিন পুতিনকে ক্ষমতা দিয়ে যাওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনিই রাশিয়া চালাচ্ছেন বলে বিশ্বাস করা হয়। ২০০৮ পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে তৃতীয় দফা হয়তো আবার নির্বাচিত হতেন। কিন্তু সংবিধান এসে বাগড়া দিল। সংবিধান মোতাবেক তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবেন না তিনি। কিন্তু তখনও ভোভার জনপ্রিয়তা কমেনি। রাজনীতিও তাকে ছাড়েনি। ফলে নিজের স্নেহধন্য মেদভেদেভকে প্রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে দিয়ে নিজে প্রধানমন্ত্রী হন।

লোকে বলে, প্রেসিডেন্ট হন কি প্রধানমন্ত্রী, রাশিয়ার চাবি আসলে পুতিনেরই হাতে। আর পুতিনই হলেন বিশ্বের বিরল সেই রাষ্ট্রনায়কদের একজন, যার জনপ্রিয়তা ৬০%-এর নিচে নামেইনি। ২০০৭ সালে পুতিনকে নিয়ে একটি সংখ্যা করেছিল টাইম ম্যাগাজিন। সেখানে তাকে অভিধা দেওয়া হয়েছিল 'রাশিয়ার নতুন জার' হিসেবে। মেদভেদেভ জনপ্রিয় কারণ তিনি পুতিনের মনোনীত, এমন বিশ্বাসও করা হয়। মেদভেদেভ-পুতিন জুটির মধ্যে বোঝাপড়াও চমৎকার।


ফরেইন পলিসি ম্যাগাজিনের অ্যালবামে একটি ছবি দেখা গেল, যেখানে ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্টের অফিসে বামে বসেছেন মেদভেদেভ আর ডানে পুতিন। বামেরটাই প্রেসিডেন্টের আর ডানেরটা অতিথির। পত্রিকাটি মনে করিয়ে দিয়েছে ২০০৮ সালের একটি ঘটনার কথা। সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট আর নতুন প্রধানমন্ত্রী পুতিন তখন ক্রেমলিনে এসেছেন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম দেওয়ার জন্য।

স্বভাববশত পুতিন এগিয়ে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্টের সিটের দিকে, কিন্তু সম্ভবত হঠাৎই তার মনে পড়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তাই বলেন, 'এ আসনটা এখন থেকে তোমার।' মেদভেদেভ তখন পরিস্থিতি সামলে বলে উঠলেন, 'তাতে কী হয়েছে?' বলেই বসে পড়লেন অতিথির আসনে। তখন প্রেসিডেন্টের আসনে বসা পুতিন আর অতিথির আসনে বসা মেদভেদেভের ছবিও ছাপা হয়েছিল পত্রিকাগুলোতে। সেই ছবির কথা মনে করিয়ে দিয়ে এখনকার একটা ছবি ছেপেছে ফরেইন পলিসি। তাতে প্রেসিডেন্টকে যথাস্থানে দেখা যাচ্ছে। পত্রিকাটি ফোঁড়ন কেটেছে, প্রেসিডেন্ট তাহলে তার আসনেই বসছেন। এবারের গ্রীষ্মে ভোভা ও দিমার দুই জায়গায় কাটানো কি তাহলে মেদভেদেভের একলা চলার কোনো ইঙ্গিত?